সর্বেশেষ
জিয়া সাইবার ফোর্স- জেড সি এফ চট্টগ্রাম মহানগর এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা চট্টগ্রামে ২৫ ভরি স্বর্ণ সহ চোরাচালানকারী গ্রেফতার চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ চট্টগ্রামে ২৯ নং ওয়ার্ড ইউনিট (এ) বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কদমতলী মহল্লা কমিটির বিশাল আয়োজন শহীদ সাংবাদিক তুহিনের দু'সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন বিএমএসএফ চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও যানজট খুলনায় বিষাক্ত দেশি মদে ১০ জনের মৃত্যু, হোমিও চিকিৎসক আটক শোকবার্তা নিয়ে আমীরে জামায়াত ২২ জুলাই খুলনায় আগমন করবেন খুলনার ৬৪ থানায় চালু হচ্ছে অনলাইন জিডি সেবা
Home / সমগ্র বাংলা / খুলনা / গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সমাবেশে হামলা: খুলনায় সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সমাবেশে হামলা: খুলনায় সংবাদ সম্মেলন

মো: আল মাসুম খান:

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতলাল বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, কিন্তু সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় রাত ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো শহরে কারফিউ জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

 

জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে এনসিপির কেন্দ্রীয় সমাবেশ শুরু হলে কিছু সময় পরই হামলার ঘটনা ঘটে। সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

 

সমাবেশ শেষে দলীয় নেতাদের বহনকারী গাড়ি বহর গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে পৌঁছালে সেখানে ফের হামলার শিকার হয়। র‌্যাব ও পুলিশের পাহারায় থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা হামলা চালায়, এমনকি সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

 

এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান ও পুলিশের একটি গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ইউএনওর গাড়িবহরে হামলা চালায়। ইউএনও নিজেও গণমাধ্যমে বলেন, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের লোকজন।

 

চরম অবরুদ্ধ অবস্থায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, তাসনিম জারা, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে সেনাবাহিনীর সশস্ত্র পাহারায় তারা শহর ত্যাগ করেন।

 

এনসিপি দাবি করেছে, এই হামলা ছিল হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত জঙ্গি কায়দার তাণ্ডব। গোপালগঞ্জকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি বানাতে দেওয়া হবে না।

 

ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, কুমিল্লা ও আরও বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ করেছে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। দলটির পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

 

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের পথে হাঁটছে। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

 

ঘটনার পর অন্তবর্তী কালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের যেসব কর্মী সহিংসতায় জড়িত, তাদের কাউকেই বিনা বিচারে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণসমাবেশে হামলা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার হরণের শামিল।

 

কারফিউ জারির পর থেকে গোপালগঞ্জ শহরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট জনশূন্য, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিং করেন এনসিপি নেতারা। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সেখানে বলেন, আজ আমার ভাইদের উপর হামলা করেছে আওয়ামী দোসররা। মুজিববাদী আওয়ামী লীগ একটি জঙ্গি গোষ্ঠী এটি আজকের হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে।” তিনি বলেন, প্রশাসনের যদি সত্যিই দায়িত্ব পালনের সদিচ্ছা থাকত, তাহলে গোপালগঞ্জের রক্তপাত ঠেকানো যেত।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, তাসনিম জারা, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তাঁরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

*