
ডেস্ক রিপোর্ট: অবশেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৩ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইলের কালিয়া থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। নিঃসন্তান একটি পরিবার টাকার বিনিময়ে ওই নবজাতককে ক্রয় করেছিল।
তবে হাসপাতাল থেকে নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত নারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সাথে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক তোফায়েল হোসেন জানান, ২৪ জানুয়ারি বিকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ জানুয়ারি মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়ার পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত হতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়।
নবজাতকের মা রানিমা বেগম জানায়, তিনি তার বাচ্চাকে চিনতে পেরেছেন। তিনি তার বাচ্চাকে ফিরে পাওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
রানিমা জানায়, ২৪ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়। দুপুরের দিকেই তিনি সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেন। বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। তারা ছাড়পত্র নিয়ে বাগেরহাট ফকিরহাটে বাড়িতে যাওয়ার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের গেটে আসেন। এসময় নবজাতকের বাবা তুরাব আলি ও আত্মীয়স্বজন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা নিয়ে কথা বলছিলেন। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক ও রোগীর আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় তা হাতাহাতি পর্যন্ত পৌঁছায়। নবজাতকটি ছিল তার খালার কোলে। হাতাহাতি ঠেকাতে সে কোলে থাকা নবজাতককে পাশের এক নারীর কাছে দেয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বাচ্চা নিতে গিয়ে দেখে ওই নারী সেখানে নেই। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হাসপাতালে শোরগোল পড়ে যায়।
তথ্য: বার্তাবাজার ডট কম
Barta Mela bangla online newsportal