
মো: আল মামুন খান: সাভারে যে দূষণ ও দখলদারিত্ব রয়েছে যেমন নদী দূষণ, খাল দখল- এসব থেকে মুক্ত করে পরিবেশের যাতে কোনো বিপর্যয় না হয় সেজন্য সাভারকে গ্রীন সাভার হিসেবে মানুষের বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে চান সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আবু বকর সরকার। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে পাথালিয়ার ঘুঘুদিয়া স্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ‘সাভার উপজেলায় এক লক্ষ বৃক্ষরোপন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকে তিনি একথা বলেন।
‘সবুজে বাঁচুক সাভার, নীল আকাশে উড়ুক স্বপ্ন হাজার ‘ প্রতিপাদ্য নিয়ে সাভার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে
‘সাভার উপজেলায় এক লক্ষ বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ (শুক্রবার) পাথালিয়া ইউনিয়নের ঘুঘুদিয়া মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু বকর সরকার। এসময় সাধারণ মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
ইউএনও জানান, ‘সবুজে বাঁচুক সাভার, নীলাকাশে উড়ুক স্বপ্ন হাজার’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে আগামীকাল ১২ জুলাই সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার উপজেলায় এক লক্ষ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান সহ ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা জেলা প্রশাসক মহোদয়।
তিনি বলেন, আমরা একদিনে যে এক লক্ষ গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- আজ থেকে ২০ বছর আগে যে গ্রীণ সাভার ছিলো, এখন শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এবং নির্বিচারে বনভূমি উজাড় করার ফলে এখন কিন্তু আর সেই গ্রীণ সাভার নেই। আমরা আবার আগের সেই গ্রীণ সাভার করতে চাই এবং আমাদের যে সন্তানরা এবং বয়োবৃদ্ধ লোকজন রয়েছেন- যারা আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি, তাদের এবং আগের প্রজন্মের জন্য আমরা মনে করি সাভারকে পূর্বের ন্যায় গ্রীণ সাভার করা প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমরা একদিনে এক লক্ষ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
ইউএনও আবু বকর সরকার আরও জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সহ আমাদের এলজিইডির যেসকল সড়ক রয়েছে সেসব সড়কের দুই পাশে এবং যেসকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বেসরকারি আঙ্গিণায় আমরা এসব গাছগুলো লাগাবো। পাশাপাশি শিল্প কারখানার মালিকদের নিয়ে আমাদের একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে, তাহলো প্রতিটি শিল্প কারখানার ছাদে ছাদ বাগানের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, যেখানে আমরা খালি জায়গা পাবো সেখানে আমরা গ্রীণ জোন তৈরী করবো। সরকারের একটা নীতি রয়েছে- জিরো সয়েল। অর্থাৎ যেখানে মাটি রয়েছে তা খালি থাকবে না, মাটি থাকলেও সেখানে সবুজ ঘাস দিয়ে দিতে হবে যাতে বায়ু দূষণ কম হয়।
সাভারের ইউএনও বলেন, সাভারে যেসব জায়গায় অবৈধ ইটের ভাটা ছিলো আমরা তা গুড়িয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি যেসকল সীসা ও ব্যাটারি ফ্যাক্টরি যা পরিবেশ দূষণ করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আমরা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এটা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
আবু বকর সরকার আরও জানান, সাভারের ১২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার মাধ্যমে আমরা গত তিনদিন ধরে এই গাছগুলো জনগণের মাঝে বিতরণ করে আসছি। আজকে আমাদের চারটি ইউনিয়নের মাধ্যমে আমরা চারা বিতরণ করবো যাতে ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা, পুকুর পাড় এবং জমিতে লাগাতে পারে। এসব গাছগুলোর পরিচর্যা
ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে যে জনবল রয়েছে, এজিডি’র জনবল এবং কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা রয়েছেন, তারাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যেমন বিডি ক্লিন, স্কাউট, রোভার, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধি সহ আমরা সকলে এই গাছগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করবো। শুধু তাই নয়, আগামী তিন বছরে কিভাবে গ্রীণ সাভার করা যায় সেজন্য পর্যায়ক্রমে গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
পাথালিয়া ইউনিয়নের ঘুঘুদিয়া স্কুল মাঠে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আগত হাজারো মানুষের মাঝে পাঁচ হাজারের অধিক বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসময় পাথালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
Barta Mela bangla online newsportal