সর্বেশেষ
জিয়া সাইবার ফোর্স- জেড সি এফ চট্টগ্রাম মহানগর এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা চট্টগ্রামে ২৫ ভরি স্বর্ণ সহ চোরাচালানকারী গ্রেফতার চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ চট্টগ্রামে ২৯ নং ওয়ার্ড ইউনিট (এ) বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কদমতলী মহল্লা কমিটির বিশাল আয়োজন শহীদ সাংবাদিক তুহিনের দু'সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন বিএমএসএফ চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও যানজট খুলনায় বিষাক্ত দেশি মদে ১০ জনের মৃত্যু, হোমিও চিকিৎসক আটক শোকবার্তা নিয়ে আমীরে জামায়াত ২২ জুলাই খুলনায় আগমন করবেন খুলনার ৬৪ থানায় চালু হচ্ছে অনলাইন জিডি সেবা
Home / জীবনযাত্রা / খাকি উর্দির মায়ায় ফুটলো এক জীবন-পদ্ম!

খাকি উর্দির মায়ায় ফুটলো এক জীবন-পদ্ম!

মো: আল মামুন খান: জন্ম থেকেই হৃৎপিণ্ডের ত্রুটি নিয়ে বেড়ে উঠছিল ১২ বছরের কিশোরী সামিয়া। পোশাকশ্রমিক বাবা আর গৃহিণী মায়ের সংসারে তার স্তব্ধ হতে চলা হৃদস্পন্দন এক কালো মেঘের মতো ছায়া ফেলেছিল। ফুসফুসে রক্তচলাচল কমে যাওয়ায় প্রায়ই জ্ঞান হারাতো সে। যে বয়সে দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে সামিয়ার প্রতিটি নিঃশ্বাস ছিল কষ্টের, আর পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মেয়ের জীবন হারানোর শঙ্কায় পরিপূর্ণ।

 

অর্থের অভাবে যখন চিকিৎসার আশা প্রায় শেষ, তখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ আলো হয়ে পথ দেখায়। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান ও তাঁর সহধর্মিণী রিফাত জাহানের চোখে পড়ে সামিয়ার অসহায়ত্বের কথা। এরপর তাঁরা আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে, নীরবে এই কিশোরীর চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।

 

তাঁদেরই তত্ত্বাবধানে ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর মো. গোলাম সরোয়ারের মাধ্যমে গত ২৩ জুন সামিয়াকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৮ জুলাই অধ্যাপক ডা. মো. শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক দীর্ঘ সাত ঘণ্টার চেষ্টায় সামিয়ার ওপেন হার্ট সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এই সাত ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে সামিয়ার পরিবারের মুখে যে হাসি ফোটে, তা ছিল অমূল্য।

 

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরার সময় সামিয়ার বাবা শামীম হোসেনের কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু। তিনি বলেন, ‘আমরা তো মেয়ের মৃত্যুকেই ভবিতব্য ধরে নিয়েছিলাম। সেখান থেকে আজ তাকে সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এসপি স্যার ও তাঁর পরিবার দেবদূতের মতো আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

 

নতুন জীবন ফিরে পাওয়া সামিয়ার চোখেমুখেও ছিল বিস্ময় আর কৃতজ্ঞতা। সে বলে, ‘আল্লাহই যেন এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আমার জন্য পাঠিয়েছেন। আমি ও আমার পরিবার সারাজীবন তাঁর জন্য দোয়া করব।’

 

এই মহৎ কাজের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম সরোয়ার জানান, এসপি মো. আনিসুজ্জামান প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। আড়ালে থেকে মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর ব্রত। তাঁর এই মানবিক গুণই পুলিশ বাহিনীতে তাঁকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।

 

এসপি আনিসুজ্জামানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, খাকি পোশাকের আড়ালেও একটি সহৃদয় মন থাকতে পারে, যা নীরবে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসে।

আপনার মতামত দিন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *

*